স্বার্থপর মানুষ নিয়ে উক্তি

স্বার্থপর মানুষ নিয়ে উক্তি | বাস্তব জীবনের তিক্ত সত্য ও শিক্ষা

মানুষ সামাজিক জীব হলেও অনেক সময় ব্যক্তিগত স্বার্থ তাকে অন্ধ করে দেয়। স্বার্থপরতা হলো এমন এক বিষ যা সুন্দরতম সম্পর্ককেও মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই পৃথিবীতে আমরা এমন অনেক মানুষের দেখা পাই যারা হাসিমুখে কথা বলে ঠিকই, কিন্তু তাদের হৃদয়ে থাকে কেবল নিজের লাভের হিসাব। স্বার্থপর মানুষের চিনতে পারা এবং তাদের থেকে নিজেকে রক্ষা করা জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা।

স্বার্থপরতার প্রকৃত স্বরূপ

স্বার্থপরতা কেবল সম্পদ বা টাকার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মানসিকতার একটি অংশ। একজন স্বার্থপর মানুষ সবসময় চায় অন্যরা তার কথা শুনুক, তার প্রয়োজন মেটাক, কিন্তু বিনিময়ে সে কাউকে কিছু দিতে চায় না। এরা সাধারণত খুব ভালো বক্তা হয় এবং আপনাকে এমনভাবে প্রভাবিত করবে যাতে আপনি তাদের জন্য সবকিছু করতে রাজি হয়ে যান। কিন্তু যখন আপনার সময় আসবে, তখন তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই তিক্ত সত্যটি গ্রহণ করা কঠিন হলেও এটিই জীবনের বড় বাস্তবতা।

স্বার্থপর মানুষ চেনার উপায় ও লক্ষণ

বাস্তব জীবনে স্বার্থপর মানুষকে শুরুতে চেনা যায় না। তারা শুরুতে খুব অমায়িক আচরণ করে। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে তাদের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেতে থাকে। তারা সবসময় কথোপকথনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চায় এবং আপনার সমস্যার কথা শুনলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্বার্থপর মানুষের কাছে সম্পর্ক হলো একটি সিঁড়ির মতো, যা তারা কেবল উপরে ওঠার জন্য ব্যবহার করে। যখন তারা কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছে যায়, তখন সেই সিঁড়িটি আর তাদের প্রয়োজন হয় না।

স্বার্থপরতা ও সম্পর্কের অবক্ষয়

যেকোনো সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস এবং ত্যাগ। যেখানে কেবল একজন ব্যক্তি ত্যাগ স্বীকার করে আর অন্যজন কেবল সুবিধা গ্রহণ করে, সেই সম্পর্ক কখনো স্থায়ী হতে পারে না। স্বার্থপর মানুষগুলো সম্পর্কের শিকড় কেটে দেয়। তারা আপনার আবেগ নিয়ে খেলা করে এবং আপনার সরলতাকে দুর্বলতা মনে করে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, স্বার্থপরতার কারণেই বর্তমানে বিবাহবিচ্ছেদ এবং পারিবারিক কলহ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিচের ছকে স্বার্থপর মানুষের কিছু আচরণগত পার্থক্য তুলে ধরা হলো:

স্বার্থপর বনাম নিঃস্বার্থ মানুষের আচরণের পার্থক্য

আচরণের ধরন স্বার্থপর মানুষের বৈশিষ্ট্য নিঃস্বার্থ মানুষের বৈশিষ্ট্য
সাহায্য করার মানসিকতা কেবল নিজের স্বার্থ থাকলে সাহায্য করে। কোনো বিনিময় ছাড়াই পাশে থাকে।
ভুল স্বীকার কখনোই নিজের ভুল স্বীকার করে না। সম্পর্কের খাতিরে ভুল স্বীকার করতে দ্বিধা করে না।
কথোপকথন সবসময় নিজের গুণগান গাইতে পছন্দ করে। অন্যের কথা মন দিয়ে শোনে এবং মূল্যায়ন করে।
সংকটের সময় সবার আগে সটকে পড়ে বা এড়িয়ে চলে। সবচেয়ে কঠিন সময়েও হাত ছেড়ে দেয় না।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ উপকার পাওয়ার পর কৃতজ্ঞতা ভুলে যায়। ছোট ছোট উপকারের কথাও মনে রাখে।

স্বার্থপরতা নিয়ে বিখ্যাত মনীষীদের দর্শন

পৃথিবীর বিখ্যাত চিন্তাবিদ ও লেখকরা স্বার্থপরতাকে নিয়ে অনেক গভীর কথা বলে গেছেন। অস্কার ওয়াইল্ড বলেছিলেন, “স্বার্থপরতা মানে নিজের ইচ্ছামতো বাঁচা নয়, বরং অন্যদেরকে নিজের ইচ্ছামতো বাঁচতে বাধ্য করা।” এটি এক গভীর সত্য। স্বার্থপর মানুষ কেবল নিজের লাভ বোঝে না, বরং সে চায় পুরো পৃথিবী তার ইশারায় চলুক। আবার মহাত্মা গান্ধীর মতে, “পৃথিবীতে সবার প্রয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ আছে, কিন্তু একজনের লোভের জন্য নয়।” এই লোভই মূলত স্বার্থপরতার জন্ম দেয়।

নিজের প্রয়োজনে মানুষের পরিবর্তন

বাস্তব জীবনের একটি বড় শিক্ষা হলো—মানুষের প্রয়োজন বদলে গেলে তাদের ব্যবহারের ধরনও বদলে যায়। গতকাল যে আপনার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল, আজ হয়তো সে আপনার ফোন ধরতেও অনীহা প্রকাশ করছে। এই পরিবর্তনটুকু আপনাকে শিখিয়ে দেয় যে, পৃথিবীতে নিজের চেয়ে আপন আর কেউ নেই। স্বার্থপর মানুষের এই পরিবর্তনগুলো শুরুতে কষ্টের হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা আমাদের শক্তিশালী করে তোলে। তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলোই আমাদের জীবনের সেরা শিক্ষক।

স্বার্থপর মানুষের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর উপায়

স্বার্থপর মানুষের থেকে নিজেকে দূরে রাখা বা তাদের সাথে সীমানা নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। আপনি যদি সবসময় ‘হ্যাঁ’ বলেন, তবে তারা আপনাকে ব্যবহার করতেই থাকবে। তাই ‘না’ বলতে শিখুন। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিন। যখনই বুঝবেন কেউ আপনার উদারতার সুযোগ নিচ্ছে, তখনই তার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, একা থাকা অনেক ভালো কিন্তু এমন মানুষের সাথে থাকা ভালো নয় যারা আপনার মূল্য বোঝে না।

ক্ষমা ও শিক্ষা: তিক্ততা দূর করার পথ

স্বার্থপর মানুষের প্রতি ঘৃণা পুষে রাখলে নিজেরই ক্ষতি হয়। সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো তাদের ক্ষমা করে দেওয়া এবং তাদের থেকে দূরে সরে আসা। তাদের আচরণ থেকে শিক্ষা নিন যেন ভবিষ্যতে আপনি আর কারো দ্বারা প্রতারিত না হন। জীবনের কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিল না, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন কারণ তারা আপনাকে শিখিয়েছে যে একা লড়াই করার ক্ষমতা আপনার ভেতরেই আছে। বাস্তব জীবনের এই তিক্ত সত্যগুলো আপনাকে মানসিকভাবে আরও পরিপক্ক করে তুলবে।

স্বার্থপর মানুষ নিয়ে ৫০টি বাস্তবসম্মত ও তিক্ত সত্য উক্তি

স্বার্থপর মানুষ নিয়ে উক্তি

১. স্বার্থপর মানুষগুলো ঠিক ততটুকুই আপনার সাথে থাকবে, যতটুকু তাদের প্রয়োজন।

২. যারা নিজের ছাড়া কারোর ভালো চায় না, দিন শেষে তাদের পাশে ছায়া ছাড়া আর কেউ থাকে না।

৩. মানুষের আসল চেহারা তার অভাবের সময় নয়, বরং আপনার বিপদের সময় চেনা যায়।

৪. স্বার্থপরের ভালোবাসা হলো কুয়াশার মতো—আলো দেখা দিলেই তা উধাও হয়ে যায়।

৫. কিছু মানুষ আপনাকে তখনই মনে করে, যখন তাদের স্বার্থের পাল্লা ভারি থাকে।

৬. আপনি যার জন্য নিজের আকাশটা ছেড়ে দেবেন, সে হয়তো আপনার জন্য একটু জমিও ছাড়বে না।

৭. স্বার্থপর মানুষ হলো সেই বিষাক্ত সাপ, যে দুধ-কলা খেয়েও সুযোগ পেলে ছোবল মারে।

৮. মানুষের প্রয়োজন যখন ফুরিয়ে যায়, তখন আপনার করা শত উপকারের কথা তারা এক নিমেষে ভুলে যায়।

৯. স্বার্থপরতা হলো এমন এক দেয়াল, যা মানুষকে ভেতর থেকে একা করে দেয়।

১০. যারা মুখে মধু আর অন্তরে বিষ রাখে, তারাই মূলত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্বার্থপর।

১১. দুনিয়াটা এখন এমন হয়েছে যে, মানুষ আপনার গুণ গায় না বরং নিজের লাভ খোঁজে।

১২. স্বার্থপর মানুষের কাছে সম্পর্ক হলো টিস্যু পেপারের মতো—ব্যবহার শেষে ছুড়ে ফেলা।

১৩. বিশ্বাস ভাঙা মানুষগুলোই আবার বড় গলায় বিশ্বাসের কথা বলে।

১৪. স্বার্থপরের ডিকশনারিতে ‘কৃতজ্ঞতা’ বলে কোনো শব্দ নেই।

১৫. আপনি হাজার বার ভালো করলেও তারা একবারের ‘না’ বলাটা সারাজীবন মনে রাখবে।

১৬. স্বার্থপর মানুষের হাসিটা অনেক সুন্দর হয়, কারণ সেটা একটা নিঁখুত অভিনয়।

১৭. কিছু মানুষ আপনার জীবনে আসবে কেবল আপনাকে ধ্বংস করে নিজে গড়ে ওঠার জন্য।

১৮. স্বার্থপররা কখনো লজ্জিত হয় না, তারা কেবল অজুহাত তৈরিতে ব্যস্ত থাকে।

১৯. আপনার সরলতাকে যারা দুর্বলতা মনে করে, তারা আসলে মানসিকভাবে নীচ।

২০. স্বার্থপর মানুষের সঙ্গের চেয়ে একাকীত্ব হাজার গুণ শ্রেয়।

২১. যারা নিজের স্বার্থে অন্যকে কষ্ট দেয়, তাদের জীবনে কখনো প্রশান্তি আসে না।

২২. স্বার্থপর মানুষগুলো অনেকটা মরীচিকার মতো—দূর থেকে আপন মনে হলেও কাছে গেলে শূন্যতা।

২৩. মানুষ বদলায় না, শুধু মানুষের প্রয়োজনগুলো বদলে যায়।

২৪. স্বার্থপর মানুষের ক্ষমা চাওয়া মানে হলো পরবর্তী অপরাধের জন্য পথ তৈরি করা।

২৫. সম্পর্কের ইতি অবহেলায় হয় না, বরং হয় কেবল একতরফা স্বার্থ রক্ষায়।

২৬. স্বার্থপর মানুষের মায়া কান্না হলো শিয়ালের হুক্কাহুয়া ডাকের মতো।

২৭. আপনার পিঠে ছুরি মারা মানুষটিই হয়তো আপনার সাথে বসে সবচেয়ে বেশি হাসত।

২৮. স্বার্থপররা কখনো আয়নায় নিজেকে দেখে না, কারণ তারা নিজেদের কুশ্রীতা সইতে পারে না।

২৯. নিজের স্বার্থের জন্য যারা ধর্মকেও ব্যবহার করে, তারা পশুর চেয়েও অধম।

৩০. স্বার্থপর মানুষের কাছে আপনার কষ্টের কোনো দাম নেই, যতক্ষণ না তারা নিজেরা কষ্টে পড়ছে।

৩১. যারা নিজের স্বার্থ ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না, সমাজ তাদের ‘চালাক’ বললেও সময় তাদের ‘প্রতারক’ বলে।

৩২. স্বার্থপর মানুষের বন্ধুত্ব হলো বৃষ্টির দিনের ছাতার মতো—কাজ মিটে গেলে বোঝা মনে হয়।

৩৩. আপনি তাকে যত বেশি প্রাধান্য দেবেন, সে আপনাকে তত বেশি সস্তা ভাববে।

৩৪. স্বার্থপরের মনে কখনো বসন্ত আসে না, সেখানে শুধু হিসাব-নিকাশের শীতকাল থাকে।

৩৫. কারো উপকারের আগে দেখে নিন সে কৃতজ্ঞ হতে জানে কি না।

৩৬. স্বার্থপর মানুষগুলো হলো তাসের ঘরের মতো—একটু বাতাসেই তাদের আসল রূপ বেরিয়ে পড়ে।

৩৭. নিজের স্বার্থে যারা মা-বাবাকেও ভুলে যায়, তাদের জন্য এই পৃথিবীতে কোনো জায়গা নেই।

৩৮. স্বার্থপর মানুষের আবেগ হলো সস্তা প্লাস্টিকের মতো—যা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

৩৯. মানুষ তার সব অপরাধ ভুলে যায়, যদি সেখানে কোনো ব্যক্তিগত লাভ থাকে।

৪০. স্বার্থপরের পাল্লায় পড়ে নিজের জীবন নষ্ট করার চেয়ে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৪১. আয়না কখনো মিথ্যা বলে না, কিন্তু স্বার্থপর মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়েও মিথ্যে হাসে।

৪২. স্বার্থপর মানুষের বড় সম্পদ হলো তাদের মিষ্টি কথা।

৪৩. যখন দেখবেন কেউ হঠাত অতিরিক্ত আপন হয়ে উঠেছে, বুঝবেন বড় কোনো স্বার্থ কাজ করছে।

৪৪. স্বার্থপররা হলো সেই পরগাছা, যারা অন্যকে মেরে নিজে বেঁচে থাকে।

৪৫. সম্পর্কের মাঝে যখন ‘আমি’ ঢুকে পড়ে, তখন ‘আমরা’ শব্দটি হারিয়ে যায়।

৪৬. স্বার্থপর মানুষের বিচার ওপরওয়ালা নিজেই করেন, একটু ধৈর্য ধরুন।

৪৭. নিজের স্বার্থের জন্য যারা তিলকে তাল করে, তারা বড়ই ভয়ংকর।

৪৮. স্বার্থপরের সাথে তর্ক করা মানে নিজের সম্মান হারানো।

৪৯. আপনি যত বেশি দান করবেন, স্বার্থপর মানুষ আপনার থেকে তত বেশি দাবি করবে।

৫০. স্বার্থপর মানুষের মন হলো মরুভূমির মতো—যত জলই ঢালুন, তা কখনো সবুজ হবে না।

৫১. পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্বার্থপর তারা, যারা নিজের ভুল জেনেও অন্যের ওপর দোষ চাপায়।

৫২. স্বার্থপর মানুষগুলো কখনোই সুখী হতে পারে না, কারণ তাদের চাহিদা কখনো মেটে না।

৫৩. কিছু মানুষ আপনাকে ভালোবাসবে কেবল আপনার থেকে কিছু পাওয়ার আশায়।

৫৪. স্বার্থপরের চোখে জল আসার মানে হলো—সে নতুন কোনো ষড়যন্ত্র করছে।

৫৫. স্বার্থপর মানুষের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়া মানে নতুন করে বেঁচে থাকা।

৫৬. আপনার পকেট যখন খালি হবে, তখন দেখবেন স্বার্থপরদের তালিকা কত লম্বা ছিল।

৫৭. স্বার্থপর মানুষ কখনো কারোর ভালো বন্ধু হতে পারে না।

৫৮. নিজের সুখের জন্য যারা অন্যের চোখে জল আনে, বিধাতা তাদের সুখ কেড়ে নেন।

৫৯. স্বার্থপর মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব কম—তারা কেবল নিজের পাওয়ার কথা মনে রাখে।

৬০. স্বার্থপরতার শেষ সীমানা হলো অকৃতজ্ঞতা।

৬১. যারা সবকিছুর মধ্যে লাভ-ক্ষতি খোঁজে, তারা কখনো ভালোবাসা পায় না।

৬২. স্বার্থপর মানুষগুলো কেবল দিতে জানে না, কেবল নিতে জানে।

৬৩. আপনার সরলতার সুযোগ নেওয়া মানুষটিই একদিন আপনাকে ‘বোকা’ বলবে।

৬৪. স্বার্থপরের কোনো ধর্ম নেই, তাদের একমাত্র ধর্ম হলো নিজের উদরপূর্তি।

৬৫. কিছু মানুষ আপনাকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করবে, আর উপরে উঠে আপনার অস্তিত্ব অস্বীকার করবে।

৬৬. স্বার্থপর মানুষের কাছে ক্ষমা করা মানে হলো নিজেকে আবার বিপদে ফেলা।

৬৭. যারা স্বার্থপর, তারা আয়নার সামনে দাঁড়িয়েও নিজেকে চিনতে পারে না।

৬৮. নিঃস্বার্থ ভালোবাসা তাদের জন্য নয়, যারা কেবল স্বার্থের পূজারি।

৬৯. স্বার্থপর মানুষ হলো সেই ধুলোর মতো, যা চোখের সামনে এলে দৃষ্টি ঝাপসা করে দেয়।

৭০. জীবনে একবার স্বার্থপরের পাল্লায় পড়া দরকার, কারণ তাতে মানুষ চেনা যায়।

৭১. স্বার্থপর মানুষগুলো সবসময় ভিকটিম সাজার চেষ্টা করে।

৭২. আপনি যার জন্য অকাতরে বিলিয়ে দেবেন, সে-ই আপনাকে শেষে বলবে—”তুমি করলেটা কী?”

৭৩. স্বার্থপর মানুষের হৃদয়টা অনেকটা ড্রেনের মতো—নোংরায় ভরা।

৭৪. যারা শুধু নিজের কথা ভাবে, তাদের জীবন চক্র একসময় একাকিত্বে শেষ হয়।

৭৫. স্বার্থপরের সাথে পথ চলা আর জলহীন মরুভূমিতে হাঁটা একই কথা।

৭৬. স্বার্থপরতা হলো এক ধরণের মানসিক অসুস্থতা।

৭৭. আপনি তাকে রাজপ্রাসাদ দিলেও সে অসন্তুষ্ট থাকবে যদি তাতে তার নিজের নাম না থাকে।

৭৮. স্বার্থপর মানুষের মুখটা হলো শয়তানের কারখানা।

৭৯. কিছু মানুষ আপনাকে তখনই সালাম দেয়, যখন তাদের কোনো কাজ আটকে থাকে।

৮০. স্বার্থপর দুনিয়া কাউকে মনে রাখে না, দিন শেষে আপনি আপনার কাছেই সত্য।

উপসংহার

স্বার্থপর মানুষ নিয়ে উক্তি

জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রায় স্বার্থপর মানুষের দেখা পাওয়া অবধারিত। একে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই, তবে একে মোকাবিলা করার উপায় আমাদের হাতেই রয়েছে। স্বার্থপরতা কেবল একজন ব্যক্তির চারিত্রিক ত্রুটি নয়, এটি আমাদের সমাজের এক অন্ধকার দিক। তবে এই তিক্ত সত্যগুলো আমাদের শেখায় কীভাবে নিজেকে ভালোবাসতে হয় এবং কীভাবে নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে হয়। যারা কেবল নিজের কথা ভাবে, তাদের জীবন চক্র একসময় নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়। তাই আসুন, আমরা নিজেরা নিঃস্বার্থ হই এবং স্বার্থপরদের থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে আরও সুন্দর ও সচেতন করে গড়ে তুলি। সম্পর্কের গভীরতা বুঝুন, মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকুন, কিন্তু নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার আগে নিশ্চিত হোন যে অন্য প্রান্তের মানুষটি আপনার মূল্যায়নের যোগ্য কি না।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী 

Q1: স্বার্থপর মানুষ চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় কী?

যখন আপনি তাদের কোনো অনুরোধে ‘না’ বলবেন, তখন তাদের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন। স্বার্থপর মানুষ তখন আপনার ওপর রেগে যাবে বা আপনাকে দোষারোপ করতে শুরু করবে।

Q2: স্বার্থপর বন্ধু বা আত্মীয়কে কীভাবে এড়িয়ে চলব?

সরাসরি ঝগড়া না করে ধীরে ধীরে তাদের সাথে যোগাযোগের দূরত্ব বাড়িয়ে দিন এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা বন্ধ করুন।

Q3: স্বার্থপর মানুষ কি কখনো বদলায়?

খুব কম ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটে। যতক্ষণ না তারা বড় কোনো ধাক্কা খায় বা অনুতপ্ত হয়, ততক্ষণ তাদের স্বভাব বদলানো প্রায় অসম্ভব।

Q4: নিজের স্বার্থ দেখা কি স্বার্থপরতা?

না, নিজের যত্ন নেওয়া বা আত্মসম্মান রক্ষা করা স্বার্থপরতা নয়। অন্যের ক্ষতি না করে নিজের উন্নয়ন চাওয়া স্বাভাবিক অধিকার।

Q5: স্বার্থপর মানুষের সাথে কথা বলা কি উচিত?

যদি সম্পর্কটি এমন হয় যে কথা বলতেই হবে, তবে কেবল প্রয়োজনীয় এবং পেশাদার কথা বলুন। আবেগপ্রবণ আলোচনা এড়িয়ে চলাই ভালো।

Q6: কেন মানুষ স্বার্থপর হয়?

শৈশবের পরিবেশ, অতিরিক্ত প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা এবং অন্যের প্রতি সহমর্মিতার অভাব থেকে মানুষ স্বার্থপর হয়ে ওঠে।

Q7: স্বার্থপরতার কারণে কোনো সম্পর্ক কি টিকে থাকতে পারে?

দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে বা এক পক্ষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

 

About Shahin Alom